দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ভেনেজুয়ায় ৯০০-এর বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ক্যারিবীয় অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওয়ে আরও প্রায় ৮০০ সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে জানান, মার্কিন সেনারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দর সচল করা, ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং আকাশ ও নৌপথে মানবিক সহায়তা সমন্বয়ের কাজ করছে।
তিনি বলেন, ভেনেজুয়ায় অন্তত চার থেকে পাঁচটি এমকিউ-৯ ‘রিপার’ ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এসব ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, সড়ক যোগাযোগ এবং ধসে পড়া ভবনের অবস্থান শনাক্তে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে।
ডোনোভানের ভাষায়, ‘যেসব প্রযুক্তি আমরা সাধারণত নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করি, এখন সেগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ধ্বংসস্তূপ ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মূল্যায়নে কাজে লাগানো হচ্ছে।’
এই সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় পরিবর্তন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে গত মাসে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দেশটির অপরাধী চক্র ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র প্রধানকে লক্ষ্য করে অভিযানও চালায় মার্কিন বাহিনী।
ডোনোভান বলেন, ‘৩ জানুয়ারির ঘটনা খুব বেশি আগের নয়। অথচ এখন দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে বদলে গেছে, সেটাই দেখার বিষয়।’
গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়ায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মাত্র এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, মার্কিন মেরিন সদস্যরাই প্রথম বিদেশি বাহিনী হিসেবে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারকারী দল ও ভারী সরঞ্জাম পরিবহনেও সহায়তা করছে, যাতে আন্তর্জাতিক ত্রাণসামগ্রী দ্রুত দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো যায়।
ভেনেজুয়া সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় দেশটির জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ডোনোভান বলেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক উপস্থিতি সাময়িক। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শেষ হলেই সেনারা ফিরে যাবে।
‘এখানে দীর্ঘমেয়াদে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাদের কাজ শেষ হলেই আমরা চলে যাব,’ বলেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/